Skip to main content

নামাজ পর্ব - ১

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রথমে আমি কিছু কথা বলে নেই যাতে আপনারা বুঝেন কোন দায়িত্ববোধ থেকে আমি পোস্টটা লিখছি।
আমি প্রায়ই দেখি নামাজের সময় হয়েছে, আযান হচ্ছে অথচ আমার বন্ধুরা সামান্য প্রাইভেটের কারনে নামাজ পড়ছে না। লোকেরা চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে । বিশেষ করে আসর ও মাগরিবের সময় চা'র দোকানের আড্ডা ও বন্ধুদের নামাজের প্রতি অবহেলা দেখলে আর মসজিদে লোকের অবস্হান দেখলে মনে হয় আমাদের দেশে মুসলমানের সংখা খুবই কম। আর মহিলাদের ব্যাপারে আমি বেশি কিছু জানিনা। তবে এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, যে মেয়ে গুলি বিকেলে প্রাইভেট পড়ে তারা আসর ও মাগরিব নামাজ পড়তে পারে না। সামান্য কাজের বাহানা দিয়ে এভাবেই আমরা দিনের পর দিন নামাজ কাজা করে চলেছি।
.
এখন নামাজ সম্পকে কিছু বলি.....
ইসলামের ৫টি ভিত্তি। কালেমা , নামাজ, রোজা, হাজ্জ ও যাকাত। কালেমার পরেই নামাজের স্হান। নামাজ হল আল্লাহপাকের সামনে হাজির হওয়া তার ডাকে সাড়া দেওয়া। আল্লাহ পাক তার বান্দাকে রোজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার হুকুম করেছেন।
হুজুর (সাঃ) বলেন "নামাজ বেহেশতের চাবি"
চাবি ছাড়া যেমন তালা খোলা যায় না তেমনি নামাজ ছাড়া বেহেশত পাব না।
হুজুর (সাঃ) বলেন, "মুমিন আর কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ। মুসলমান নামাজ পড়ে আর কাফেররা পড়ে না"
হুজুর (সাঃ) আরো বলেন, "হাসরের মাঠে সর্বপ্রথম হিসাব লওয়া হইবে নামাজের।"
আল্লাহ পাক কোরআন শরীফে ঘোষণা করেন "নিশ্চয় নামাজ কুপথ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে"
হুজুর (সাঃ) বলেন, "যখন কোন মুসলমান ব্যাক্তি আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির আশায় নামাজ পড়ে, তখন তাহার পাপসমূহ গাছের পাতার ন্যায় ঝরিয়া পড়ে।"
আল্লাহ পাক প্রিয় নবী সাঃ কে ডেকে বলেন "হে আমার হাবিব! আমি আপনার উম্মতের উপর ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করেছি। যে ব্যাক্তি এই ৫ ওয়াক্ত নামাজ সময়মত আদায় করবে, আমি তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাইবার ওয়াদা করলাম। আর যে ব্যাক্তি সময়মত নামাজ আদায় করবে না, আমি তার জন্য দায়ী নই। অর্থাত, সেই ব্যাক্তি দোজখের মধ্যে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে।"
হুজুর (সাঃ) বলেন, "মুসলমানদের জন্য মেরাজ হল নামাজ। যদি কেউ ইচ্ছা করে ১ ওয়াক্ত নামাজ কামাই দেয়, তবে তাকে ২৮৮০০০০০ বছর ঝলন্ত আগুনে জ্বলতে হবে।"
আরো একটি হাদীসে হুজুর (সাঃ) বলেন, "তোমরা এই দোয়া কর, হে আল্লাহ আমাদের মধ্যে কাওকে তুমি হতভাগ্য বঞ্চিত করো না।" অতপর নিজেই প্রশ্ন করলেন, "তোমরা কি জানো হতভাগ্য বঞ্চিত কে?" সাহাবীগণ জানিতে চাহিলে তিনি বলেন, "যে ব্যাক্তি নামাজ ছাড়িয়া দেয় সেই হতভাগ্য বঞ্চিত। ইসলামে তার কোন অংশ নেই।"
নামাজ ঈমানদারদের জন্য মেরাজ সমতুল্য। আল্লাহ পাক নামাজের প্রথম সেজদায় মানুষকে জানিয়ে দেন যে, তোমাকে এই মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছি। দ্বিতীয় সেজদায় জানিয়ে দেন আবার এই মাটির সাথে মিলিয়ে দেব। আল্লাহু আকবার বলে দাড়ানোর সময় জানিয়ে দেন, কেয়ামতের দিন আবার এই মাটি থেকে জীবিত করে দাঁড় করাব। নামাজ ছাড়া কেউ আল্লাহর দরজায় পৌছাতে পারেনি।
ভাই ও বোনেরা আমি যতটুকু জানি ততটুকু দিয়েই আপনাদের বোঝাতে চেষ্টা করলাম। নামাজ আল্লাহর অধিকার, তা অবশ্যই আমাদের আদায় করতে হবে। নামাজ না পড়ে আমরা জান্নাতে জায়গা করতে পারব না। তাই আসুন আমরা নামাজী হওয়ার চেষ্টা করি। আর এই রমজানকেই আল্লাহ তালা আমাদের প্রত্যাবর্তনের উছিলা করে দিন।
আমিন

নামাজ সম্পর্কিত অন্যান্য পর্ব গুলি দেখুন-


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক' 

প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Comments